স্টাফ রিপোর্টার : আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভোলা শহরের সদর রোড এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর জেলা সমন্বয়কারী মো: আফজাল হোসেন এই মানববন্ধন পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নির্যাতন বিরোধী বিভিন্ন ধরনে প্লেকার্ড বহন করে অংশ নেয়া বিভিন্নস্থান থেকে আসা নিযিতিত মানুষেরা। তারা একটাই দাবী জানান,আর যেন কাউকে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়। কোন বাবাকে তার সন্তান ও স্ত্রীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া না হয়।
মানববন্ধনে ভোলার বিভিন্ন স্থান থেকে নির্যাতিত মানুষেরা অংশ গ্রহন করেৃৃ৮ন। এর মাঝে খন্দকার আলামিন তার জীবনের ঘটে যাওয়া নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। এসময় তিনি বলেন,সেই বিভিশিকাময় দিন গুলো এখনো তাকে ঘুমাতে দেয় না। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলের ১৭টি বছর ছিলো তার জন্য যন্ত্রনার। শহরের কোথাও নিরাপদ ছিলো না জন্য। পুলিশী হয়রানীর ফলে ছোট শিশুর জন্য খেলনা কিনতে এসেও আটক হয়েছেন পুলিশ ও র্যা বের হাতে। বরন করতে হয়েছে একাধিকবার কারাবরন। ডান্ডাবেরি ছিলো তার জন্য নিত্যদিনের সংগি। শুধু তাই নয়,কারাগারের অভ্যান্তরেও নিরাপদ ছিলো না তার জন্য। এখাধিকবার হত্যার চেস্টা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন,সাবেক এই সেচ্ছাসেবক দল নেতা। তার মতে এটাতো কোন রাজনীতি নয়। কেন তাকে বার বার টার্গেট করা হতো বলে জানতে জান এই নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি। বর্তমানে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও মাথায় রয়েছে গুলির স্পিল্ডার। সঠিক চিকিৎসার অভাবে সেই যন্ত্রনা তাকে ঘুমাতে তদেয়া না। মাথার গুলি বের করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।
অপরদিকে ঘুমের শিকার মাও: মোহাম্মদ মহিবুল্ল্যাহ বলেন,মাদ্রাসায় ক্লাস নেয়ার সময় পিওন দিয়ে ডেকে এনে তাকে সাদা গাড়ীতে কালো গ্লাস দেয়া অবস্থায় তার চোখ বেধেঁ তাকে তুলে নেয়া হয়। কান্না জড়িত কন্ঠ জানতে চান সেদিন কি ছিলো তার অপরাধ। অমানুষিক অত্যাচার করা হয় তাকে। দেয়া হয় জীবন নাশের হুমকি। বাধ্য করা হয় তাদের লিখে দেয়া শিকারুক্তিতে স্বাক্ষর করতে। জীবনের ভয় সবকিছু মেনে নিতে হয়েছিলো। শরীরে লেগে থাকা রক্তের কথা জানতে চাইলে মিথ্যা বলতে হয়েছে। ভোলা থেকে ধরে নিলেও গ্রেফতার দেখানো হয় তিনটি মিথ্যা মামলায় সায়েদাবাদে। এখন তাকে এলাকার মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। কেউ দিচ্ছে না তাকে চাকুরী। খেয়ে না খেয়ে কাটে বৃদ্ধা অসুস্থ্য মাকে নিয়ে তাদের জীবন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবী এভাবে আর কোন ব্যক্তিকে যেন ক্ষতিগ্রস্থ্য হতে না হয়।
মানববন্ধনে আসা মো: রিপন বলেন,পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছেন। প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত পায়নি। নির্যাতনের ফলে তার ভেঙ্গে গেলেও চিকিৎসা করাতে পর্যন্ত পারেনি। এভাবে আরো লোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরলেন মো: জাকারিয়া মঞ্জু। তিনি বলেন,দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতির প্রতিবাদের আন্দোলন করতে গিয়ে পাখির মত পুলিশ গুলি করে হত্যা করে ছাত্রদল সভাপতি মো: নুর আলম এবং সেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমকে। যার বিচাঁর আজ পর্যন্ত আমরা ভোলাবাসি পাইনি। অথচ সেই পুলিশ অফিসার খুব সুন্দর ভাবেই চাকুরী করে যাচ্ছেন।