Logo
প্রিন্টের তারিখ: 30 July 2026 | প্রকাশের তারিখ: Jul 29, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ভোলায় সতীনসহ তিন আসামি অব্যাহতি পাওয়ায় আদালতে বাদির বিষপান!

ভোলায় সতীনসহ তিন আসামি অব্যাহতি পাওয়ায় আদালতে বাদির বিষপান!

ভোলায় স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি যৌতুক নির্যাতন মামলার চার্জশিট থেকে সতীন ও তার বাবা-মায়ের নাম বাদ পড়ায় আদালতকক্ষে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাঁরাবানু (৩৫) নামে এক নারী। পরে আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ভোলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠুর এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।

আহত তাঁরাবানু জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মধ্যের চর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকায় তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন এবং একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে কর্মরত রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১১ আগস্ট তাঁরাবানু তার স্বামী বাহার উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ)/৩০ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর সিআর-৫২৫/২৫।

মামলার আসামিরা হলেন—স্বামী বাহার উদ্দিন (৩২), বাহার উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মিছির খাঁ, মা নূর নাহার বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সাথী বেগম। মামলার প্রধান আসামি বাহার উদ্দিন এ মামলায় কয়েক মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান।

বুধবার মামলার চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। আদালত বাহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন এবং অপর তিন আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরাবানু তার ব্যাগ থেকে একটি কীটনাশকের বোতল বের করে আদালতকক্ষেই পান করেন বলে জানা গেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভোলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক শেখ মো. নাসির উদ্দীন বলেন, “আদালত চলাকালীন সময়ে ওই নারী কিছু একটা পান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরাফাতুর রহমান বলেন, ওই নারীর চিকিৎসা চলছে। তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তিনি কী ধরনের পদার্থ পান করেছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


এ বিষয়ে ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মোঃ ফরিদুর রহমান বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তিনি হয়তো মনে করেছিলেন, এদিনই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। প্রকৃতপক্ষে আদালত কেবল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোলা প্রেস ২০২৬
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF